হাইড্রোনেফ্রোসিস ট্রিটমেন্ট (Hydronephrosis Treatment): কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
প্রকাশের তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ লিখেছেন: Miraz Hossain DM, Royal Multispecialty Hospital (RMSH), মোহাম্মদপুর, ঢাকা

হাইড্রোনেফ্রোসিস কী?
হাইড্রোনেফ্রোসিস (Hydronephrosis), যাকে সাধারণ ভাষায় “কিডনিতে পানি জমা” বলা হয়, হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কিডনির ভেতরের প্রস্রাব সংগ্রহকারী অংশ ফুলে গিয়ে স্ফীত হয়ে যায়। সময়মতো সঠিক Hydronephrosis Treatment না নিলে এটি কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
হাইড্রোনেফ্রোসিস একটি কিডনিতে (Unilateral) অথবা দুটি কিডনিতেই (Bilateral) হতে পারে, এবং এটি নবজাতক, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক — সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যেতে পারে।
হাইড্রোনেফ্রোসিস কেন হয়? — বিস্তারিত কারণসমূহ
মূত্রনালীর যেকোনো স্থানে বাধা সৃষ্টি হলে বা প্রস্রাব উল্টো দিকে ফিরে এলে (Reflux) হাইড্রোনেফ্রোসিস হতে পারে।
১. কিডনি স্টোন (Kidney Stone)
মূত্রনালীতে আটকে থাকা পাথর প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে কিডনিতে প্রস্রাব জমতে শুরু করে।
২. ইউরেটারে বাধা (Ureteral Obstruction)
কিডনি থেকে মূত্রাশয় পর্যন্ত সংযোগকারী নালী সরু হয়ে যাওয়া বা জন্মগত ত্রুটির কারণে প্রস্রাব প্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে।
৩. প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া (Benign Prostatic Hyperplasia - BPH)
বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে মূত্রনালীতে চাপ দিলে প্রস্রাব বের হতে বাধা পায়।
৪. জন্মগত ত্রুটি (Congenital Abnormalities)
নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে মূত্রনালীর গঠনগত ত্রুটি (UPJ Obstruction) হাইড্রোনেফ্রোসিসের সাধারণ কারণ।
৫. ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স (Vesicoureteral Reflux - VUR)
এই অবস্থায় প্রস্রাব মূত্রাশয় থেকে উল্টো দিকে কিডনির দিকে ফিরে আসে।
৬. টিউমার বা ক্যান্সার
মূত্রনালী, মূত্রাশয় বা প্রোস্টেটের টিউমার বাইরে থেকে চাপ দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
৭. গর্ভাবস্থা (Pregnancy)
গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পেয়ে ইউরেটারে চাপ দিতে পারে, যা সাধারণত সন্তান জন্মের পর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
৮. মূত্রনালীর সংক্রমণ ও প্রদাহজনিত দাগ টিস্যু
বারবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ফলে তৈরি হওয়া দাগ টিস্যু মূত্রনালী সরু করে ফেলতে পারে।
হাইড্রোনেফ্রোসিসের লক্ষণসমূহ
হাইড্রোনেফ্রোসিসের লক্ষণ নির্ভর করে কারণ, তীব্রতা এবং এটি হঠাৎ (Acute) নাকি ধীরে ধীরে (Chronic) হয়েছে তার উপর। অনেক সময় হালকা হাইড্রোনেফ্রোসিসে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে, বিশেষত এটি যদি সাধারণ আল্ট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে।
তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পাশের বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা — যা তলপেট বা কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
- প্রস্রাবে রক্ত (Hematuria)
- বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ (Recurrent UTI)
- বমি বমি ভাব ও বমি
- জ্বর ও কাঁপুনি (সংক্রমণ থাকলে)
- পেট ফুলে যাওয়া বা তলপেটে চাপ অনুভব করা
- শিশুদের ক্ষেত্রে: খেতে অনীহা, বিরক্তি ও বৃদ্ধি কম হওয়া
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যদি তীব্র ব্যথার সাথে জ্বর, বমি বা প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং অবিলম্বে হাসপাতালে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
হাইড্রোনেফ্রোসিস নির্ণয়ের পদ্ধতি
সঠিক কারণ ও তীব্রতা নির্ণয়ের জন্য ইউরোলজিস্ট নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
- আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound) — সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা, কিডনির ফোলাভাব সরাসরি দেখা যায়
- সিটি স্ক্যান (CT Scan) — বাধার সঠিক অবস্থান ও কারণ নির্ণয়ে সহায়ক
- এমআরআই (MRI) — বিস্তারিত ইমেজিংয়ের প্রয়োজন হলে
- রেনাল স্ক্যান (Renal Scan / Nuclear Scan) — কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য
- ইউরিন টেস্ট ও ব্লাড টেস্ট — সংক্রমণ ও কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে
- ভয়েডিং সিস্টোইউরেথ্রোগ্রাম (VCUG) — বিশেষত শিশুদের রিফ্লাক্স নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়
হাইড্রোনেফ্রোসিসের তীব্রতার মাত্রা (Grading)
চিকিৎসকরা সাধারণত হাইড্রোনেফ্রোসিসকে তীব্রতা অনুযায়ী ৪টি গ্রেডে ভাগ করেন:
| গ্রেড | বিবরণ |
|---|---|
| Grade 1 (হালকা) | সামান্য ফোলাভাব, সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না |
| Grade 2 | মৃদু ফোলাভাব, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন |
| Grade 3 | মাঝারি থেকে উল্লেখযোগ্য ফোলাভাব, চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে |
| Grade 4 (গুরুতর) | তীব্র ফোলাভাব, কিডনির টিস্যু পাতলা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি, দ্রুত চিকিৎসা জরুরি |
হাইড্রোনেফ্রোসিসের চিকিৎসা (Hydronephrosis Treatment)
সঠিক Hydronephrosis Treatment সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে এর অন্তর্নিহিত কারণ, তীব্রতা ও রোগীর বয়সের উপর। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পর্যবেক্ষণ (Watchful Waiting)
হালকা মাত্রার (Grade 1-2) হাইড্রোনেফ্রোসিসে, বিশেষত নবজাতকদের ক্ষেত্রে, নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয় — কারণ এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যেতে পারে।
২. ওষুধ
সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়।
৩. ইউরেটারাল স্টেন্টিং (Ureteral Stenting)
বাধাপ্রাপ্ত স্থানে একটি ছোট নমনীয় টিউব বসিয়ে প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।
৪. নেফ্রোস্টমি টিউব (Nephrostomy Tube)
জরুরি অবস্থায় ত্বকের মাধ্যমে একটি টিউব কিডনিতে প্রবেশ করিয়ে সাময়িকভাবে প্রস্রাব নিষ্কাশন করা হয়।
৫. পাথর অপসারণ সার্জারি
কিডনি স্টোনের কারণে বাধা তৈরি হলে ESWL, Ureteroscopy (URS) বা PCNL-এর মাধ্যমে পাথর অপসারণ করা হয়।
৬. পাইলোপ্লাস্টি (Pyeloplasty)
জন্মগত ত্রুটির কারণে বাধা তৈরি হলে, সংকীর্ণ অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করে প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।
৭. প্রোস্টেট চিকিৎসা
BPH-এর কারণে সমস্যা হলে, প্রোস্টেট গ্রন্থির আকার কমানোর ওষুধ বা সার্জারি (TURP) করা হতে পারে।
৮. অন্তর্নিহিত টিউমারের চিকিৎসা
টিউমার বা ক্যান্সারের কারণে বাধা তৈরি হলে, অনকোলজিস্টের সাথে সমন্বয় করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
চিকিৎসা না করালে কী জটিলতা হতে পারে?
হাইড্রোনেফ্রোসিস দীর্ঘদিন চিকিৎসা ছাড়া রেখে দিলে নিম্নলিখিত গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে:
- কিডনির স্থায়ী ক্ষতি — দীর্ঘমেয়াদী চাপের কারণে কিডনির টিস্যু পাতলা হয়ে কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
- কিডনি ফেইলিউর — উভয় কিডনি আক্রান্ত হলে বা একমাত্র কার্যকর কিডনি প্রভাবিত হলে
- বারবার ও গুরুতর সংক্রমণ, যা সেপসিসের (রক্তে সংক্রমণ) ঝুঁকি তৈরি করতে পারে
- উচ্চ রক্তচাপ — কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এটি হতে পারে
তাই লক্ষণ দেখা দিলে বা রুটিন আল্ট্রাসাউন্ডে হাইড্রোনেফ্রোসিস ধরা পড়লে, দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইড্রোনেফ্রোসিস প্রতিরোধের উপায়
সরাসরি প্রতিরোধযোগ্য না হলেও, নিচের অভ্যাসগুলো ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে:
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
- কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
- ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, যাতে দাগ টিস্যু তৈরি না হয়
- বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেটের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
- গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে প্রস্রাবের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা
- নবজাতকদের ক্ষেত্রে জন্মের পরবর্তী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, যাতে জন্মগত ত্রুটি দ্রুত ধরা পড়ে
RMSH-এ কার্যকর Hydronephrosis Treatment
Royal Multispecialty Hospital (RMSH)-এ অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও নেফ্রোলজিস্টদের সমন্বিত টিম আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইড্রোনেফ্রোসিসের সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত Hydronephrosis Treatment প্রদান করে থাকে — শিশু থেকে বয়স্ক, সব বয়সের রোগীর জন্য।
কেন RMSH বেছে নেবেন?
- অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও নেফ্রোলজিস্ট টিম
- আধুনিক ইমেজিং সুবিধা (আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, রেনাল স্ক্যান)
- ন্যূনতম ছেদনযুক্ত (Minimally Invasive) সার্জারি সুবিধা
- শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক — উভয়ের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা
- সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত সেবা ও নিয়মিত ফলো-আপ
RMSH-এর ঠিকানা ও যোগাযোগ
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
সঠিক Hydronephrosis Treatment নেওয়া জরুরি কেন?
চিকিৎসা না করালে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি, বারবার সংক্রমণ এমনকি কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি থাকে। তাই দ্রুত সঠিক চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইড্রোনেফ্রোসিস কি নিজে থেকে সেরে যেতে পারে?
হালকা মাত্রার (Grade 1-2) হাইড্রোনেফ্রোসিস, বিশেষত নবজাতক ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে, অনেক সময় নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
হাইড্রোনেফ্রোসিস কি বিপজ্জনক?
মৃদু হাইড্রোনেফ্রোসিস সাধারণত বিপজ্জনক নয়, তবে চিকিৎসা না করালে এটি কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
হাইড্রোনেফ্রোসিস কি শুধু বয়স্কদের হয়?
না, এটি নবজাতক, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক — সব বয়সের মানুষের হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হাইড্রোনেফ্রোসিস হলে কী করণীয়?
গর্ভাবস্থায় হওয়া হাইড্রোনেফ্রোসিস সাধারণত সাময়িক এবং সন্তান জন্মের পর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।
ঢাকায় কোথায় ভালো ইউরোলজিস্টের কাছে পরামর্শ নেব?
Royal Multispecialty Hospital (RMSH), মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও নেফ্রোলজিস্টদের কাছ থেকে হাইড্রোনেফ্রোসিসের সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসা নেওয়া যায়।