কিডনি স্টোন (Kidney Stone): কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
প্রকাশের তারিখ:১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ লিখেছেন: Miraz Hossain DM, Royal Multispecialty Hospital (RMSH), মোহাম্মদপুর, ঢাকা

কিডনি স্টোন কী?
কিডনি স্টোন (Kidney Stone) বা বৃক্কে পাথর হলো কিডনির ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের কঠিন স্ফটিক জাতীয় পদার্থ। প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিডের মতো উপাদান জমাট বেঁধে এই পাথর তৈরি হয়। আকারে এটি বালুকণার মতো ছোট থেকে শুরু করে গল্ফ বলের মতো বড়ও হতে পারে।
কিডনি স্টোনের ধরন
- ক্যালসিয়াম স্টোন — সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
- ইউরিক অ্যাসিড স্টোন — উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার ও পানিশূন্যতার কারণে হয়
- স্ট্রুভাইট স্টোন — সাধারণত ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (UTI) কারণে হয়
- সিস্টিন স্টোন — বিরল, বংশগত কারণে হয়

কিডনি স্টোন কেন হয়? — মূল কারণসমূহ
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা — শরীরে পানিশূন্যতা পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ
- অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিনযুক্ত খাবার
- অক্সালেটযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া — যেমন পালং শাক, চকলেট, বাদাম
- পারিবারিক ইতিহাস (Family History)
- স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত ওজন
- স্থূলতা ও দীর্ঘমেয়াদী ইউরিনারি ইনফেকশনঅনিয়ন্ত্রিত ওজন
- নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- হজমজনিত রোগ, যেমন ক্রনিক ডায়রিয়া বা প্রদাহজনিত পেটের রোগ
কিডনি স্টোনের প্রধান লক্ষণসমূহ
কিডনি স্টোন ছোট থাকলে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে পাথর বড় হলে বা মূত্রনালীতে আটকে গেলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
- পিঠের নিচের দিকে বা কোমরের পাশে তীব্র ব্যথা
- ব্যথা তলপেট ও কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়া
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
- প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
- ঘোলাটে বা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
- বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া
- বমি বমি ভাব ও বমি
- জ্বর ও কাঁপুনি (সংক্রমণ থাকলে)

কিডনি স্টোন নির্ণয় পদ্ধতি
- আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound)
- সিটি স্ক্যান (CT Scan) — সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি
- প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine Test)
- রক্ত পরীক্ষা — কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য
- এক্স-রে (KUB X-ray)
কিডনি স্টোনের চিকিৎসা
পাথরের আকার, অবস্থান ও লক্ষণের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়:
- পর্যাপ্ত পানি পান ও পর্যবেক্ষণ — ছোট আকারের পাথর (৪-৫ মিমি পর্যন্ত) প্রায়ই প্রস্রাবের সাথে আপনাআপনি বেরিয়ে যায়
- ওষুধ — ব্যথা কমাতে এবং পাথর সহজে বের হতে সাহায্যকারী ওষুধ
- ESWL (Extracorporeal Shock Wave Lithotripsy) — শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে পাথর ভেঙে ছোট টুকরো করা হয়, যা প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়
- URS (Ureteroscopy) — মূত্রনালী দিয়ে ছোট যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে পাথর অপসারণ
- PCNL (Percutaneous Nephrolithotomy) — বড় আকারের পাথরের জন্য ব্যবহৃত ন্যূনতম ছেদনযুক্ত (minimally invasive) সার্জারি
- ওপেন সার্জারি — খুব বিরল ক্ষেত্রে, যখন অন্য কোনো পদ্ধতি কাজ না করে
কিডনি স্টোন প্রতিরোধের উপায়
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন (কমপক্ষে ২-৩ লিটার)
- লবণ ও প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- অক্সালেটযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে খান
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও সুস্থ ওজন বজায় রাখুন
- আগে কিডনি স্টোন হয়ে থাকলে নিয়মিত ইউরোলজিস্টের ফলো-আপে থাকুন
- পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার (স্বাভাবিক মাত্রায়) গ্রহণ করুন — ক্যালসিয়াম একেবারে বাদ দেওয়া উচিত না
চিকিৎসা না করালে কী ঝুঁকি হতে পারে?
চিকিৎসা না করালে কিডনি স্টোন মূত্রনালীতে বাধা সৃষ্টি করে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে, বারবার সংক্রমণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ফেইলিউরের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Royal Multispecialty Hospital (RMSH)-এ কিডনি স্টোন চিকিৎসা
Royal Multispecialty Hospital (RMSH)-এ অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে আধুনিক প্রযুক্তি (ESWL, URS, PCNL) ব্যবহার করে কিডনি স্টোনের নির্ভুল নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
কেন RMH বেছে নেবেন?
- অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইউরোলজিস্ট টিম
- আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সুবিধা (আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান)
- ন্যূনতম ছেদনযুক্ত (minimally invasive) চিকিৎসা পদ্ধতি
- সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত সেবা
- সার্জারি পরবর্তী নিয়মিত ফলো-আপ
RMSH-এর ঠিকানা ও যোগাযোগ
📍 ইউনিট-১: ২০/৩, বাবর রোড, ব্লক-বি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
📍 ইউনিট-২: মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১, ৫ম তলা, কলেজ গেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
📞 ফোন: +8801700999222/ +8801317772555 (WhatsApp/Imo)
ওয়েবসাইট: rmshospitals.com
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
সাধারণত পিঠের নিচের দিকে বা কোমরের একপাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, যা ঢেউয়ের মতো (কমে-বাড়ে) অনুভূত হয় এবং তলপেট বা কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হ্যাঁ, ৪-৫ মিমি পর্যন্ত ছোট আকারের পাথর প্রায়ই পর্যাপ্ত পানি পান ও ওষুধের সাহায্যে নিজে থেকেই প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। তবে বড় আকারের পাথরের জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
হ্যাঁ, ছোট পাথরের ক্ষেত্রে পানি, ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে চিকিৎসা সম্ভব। বড় পাথরের ক্ষেত্রে ESWL-এর মতো ন্যূনতম ছেদনযুক্ত পদ্ধতিও অস্ত্রোপচার ছাড়াই কার্যকর।
হ্যাঁ, একবার কিডনি স্টোন হলে তা পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও নিয়মিত ফলো-আপ গুরুত্বপূর্ণ।
Royal Multispecialty Hospital (RMSH), মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টদের কাছ থেকে কিডনি স্টোনের সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসা নেওয়া যায়।