November 2026 · Men’s Health Awareness
নিজের স্বাস্থ্য
নিজের দায়িত্ব
প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে কথা বলা অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু নীরব থাকা সমাধান নয়। ঝুঁকি বোঝা, পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং screening-এর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে সঠিক আলোচনা—এই তিনটি পদক্ষেপ পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তথ্য হালনাগাদ: ১ নভেম্বর ২০২৬

November 2026-এ প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে কথা বলা জরুরি কেন?
প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে বিশ্বে অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার। শুরুতে অনেকের কোনো উপসর্গ থাকে না। আবার প্রস্রাবের দুর্বল ধারা বা রাতে বারবার প্রস্রাব ক্যান্সার ছাড়াও প্রোস্টেট বড় হওয়া, প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। তাই ভয় নয়—ব্যক্তিগত ঝুঁকি বোঝা এবং পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই সচেতনতার মূল উদ্দেশ্য।
প্রোস্টেট ক্যান্সার কী?
প্রোস্টেট হলো পুরুষের শরীরের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে এবং মূত্রনালির চারপাশে থাকে। প্রোস্টেটের কোষ যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে শুরু করে এবং আশপাশের টিস্যুতে আক্রমণ করতে পারে, তখন তাকে প্রোস্টেট ক্যান্সার বলা হয়।
সব প্রোস্টেট ক্যান্সার একই গতিতে বাড়ে না। কিছু ধীরে বাড়ে, আবার কিছু দ্রুত বাড়তে বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পরীক্ষা ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিভেদে নেওয়া জরুরি।
IARC-এর GLOBOCAN 2024 অনুযায়ী, বিশ্বে ১৫ লাখের বেশি নতুন প্রোস্টেট ক্যান্সার কেস এবং প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মৃত্যু অনুমান করা হয়েছে।
প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?
প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ প্রোস্টেট ক্যান্সারে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। রোগ বাড়লে প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট, দুর্বল বা থেমে থেমে ধারা, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী কোমর, নিতম্ব বা পেলভিসের ব্যথা হতে পারে।
প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট, দুর্বল ধারা বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভূতি।
প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত, জ্বালা, বীর্যপাতের সময় ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিসের ব্যথা।
এই লক্ষণগুলো BPH, প্রদাহ বা সংক্রমণেও হতে পারে। নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন হলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। BRCA2 এবং কিছু ক্ষেত্রে BRCA1-এর মতো বংশগত জিনগত পরিবর্তনও সম্পর্কিত হতে পারে।
পরিবারে কার ক্যান্সার হয়েছিল, কত বছর বয়সে হয়েছিল এবং অন্য সদস্যদের স্তন, ডিম্বাশয়, অগ্ন্যাশয় বা প্রোস্টেট ক্যান্সার ছিল কি না—চিকিৎসককে জানান।
PSA পরীক্ষা কী এবং এটি কি সবার জন্য জরুরি?
PSA বা prostate-specific antigen হলো প্রোস্টেট তৈরি করা একটি প্রোটিন। রক্ত পরীক্ষায় PSA-এর মাত্রা মাপা যায়। PSA বেশি হলেই ক্যান্সার নিশ্চিত হয় না; প্রোস্টেট বড় হওয়া, প্রদাহ, সংক্রমণ বা অন্য কারণেও তা বাড়তে পারে।
PSA screening কিছু ক্যান্সার আগেই শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু false-positive ফল, অপ্রয়োজনীয় biopsy, overdiagnosis এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও আছে। লাভ ও ক্ষতি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
সচেতনতার গুরুত্ব
GLOBOCAN 2024-এর মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ১,৫৩৮টি নতুন ঘটনা এবং ৮৯৭টি মৃত্যু অনুমান করা হয়েছে। এই সংখ্যা জাতীয় রেজিস্ট্রির সরাসরি গণনা নয়; IARC-এর data source ও model-based estimates-এর ওপর তৈরি।
অস্বস্তি হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, প্রয়োজন হলে ইউরোলজিস্টের কাছে যান এবং social media-র অসম্পূর্ণ তথ্যের বদলে নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করুন।
পুরুষদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন
নিজের পারিবারিক ইতিহাস লিখে রাখুন। প্রস্রাবের ধারা, ব্যথা, রক্ত বা যৌনস্বাস্থ্যের নতুন পরিবর্তনকে অবহেলা করবেন না। PSA পরীক্ষা করতে চাইলে রিপোর্টের একটি সংখ্যাকে নিজে ব্যাখ্যা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে follow-up plan জেনে নিন।
YOUR RISKসচেতনতা · আলোচনা · যত্ন
প্রোস্টেট ক্যান্সার: সাধারণ প্রশ্নের উত্তর
প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কী?
শুরুতে অনেকের কোনো লক্ষণ থাকে না। রোগ বাড়লে প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী কোমর-পেলভিসের ব্যথা হতে পারে।
PSA বেশি মানেই কি প্রোস্টেট ক্যান্সার?
না। প্রোস্টেট বড় হওয়া, প্রদাহ, সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণেও PSA বাড়তে পারে। রিপোর্ট চিকিৎসকের সঙ্গে দেখে পরবর্তী plan ঠিক করতে হয়।
কারা PSA screening নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবেন?
বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত ঝুঁকি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। screening-এর আগে সম্ভাব্য লাভ ও ক্ষতি আলোচনা করুন।
প্রস্রাবের সমস্যা হলেই কি ক্যান্সার হয়েছে?
না। BPH, সংক্রমণ বা প্রোস্টেটের প্রদাহেও একই সমস্যা হতে পারে। পরীক্ষা ছাড়া কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে, রক্ত দেখা গেলে, তীব্র ব্যথা হলে বা জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পড়ুন
এই লেখার তথ্য IARC, CDC, NCI এবং GLOBOCAN-এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষা; ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়।