হেপাটাইটিস বি ও সি: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা — বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২৮ জুলাই
সংক্ষিপ্ত উত্তর: হেপাটাইটিস হলো ভাইরাস সংক্রমণের কারণে লিভারের প্রদাহ, যার মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বিপজ্জনক — কারণ প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ থাকে না, অথচ চিকিৎসা না করালে এটি লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয় এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে।

হেপাটাইটিস কী?
হেপাটাইটিস মানে লিভার বা যকৃতের প্রদাহ। এটি প্রধানত পাঁচ ধরনের ভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে — হেপাটাইটিস A, B, C, D ও E। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি-কে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “নীরব ঘাতক” বলা হয়, কারণ এগুলো বছরের পর বছর শরীরে থেকে ধীরে ধীরে লিভার নষ্ট করে দিতে পারে, অথচ রোগী বুঝতেই পারেন না।
হেপাটাইটিস বি ও সি কীভাবে ছড়ায়?
- সংক্রমিত রক্ত সঞ্চালনের (ব্লাড ট্রান্সফিউশন) মাধ্যমে
- অব্যবহৃত বা অজীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ, সূচ, ব্লেড বা রেজর ব্যবহারে
- মা থেকে সন্তানের শরীরে (গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালে)
- অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
- সংক্রমিত ব্যক্তির টুথব্রাশ বা ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করে ব্যবহারে

হেপাটাইটিসের লক্ষণ কী কী?
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না। লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণত যা দেখা যায়:
- ক্রমাগত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- জন্ডিস — চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
- ক্ষুধামন্দা ও বমি বমি ভাব
- পেটের ডানদিকে (লিভারের অবস্থানে) ব্যথা বা অস্বস্তি
- প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া
- জয়েন্টে ব্যথা

হেপাটাইটিস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণ ধরা পড়ে। সাধারণত যে টেস্টগুলো করা হয়:
- HBsAg টেস্ট — হেপাটাইটিস বি শনাক্তে
- Anti-HCV টেস্ট — হেপাটাইটিস সি শনাক্তে
- Liver Function Test (LFT) — লিভার ঠিকমতো কাজ করছে কিনা বুঝতে
- প্রয়োজনে আলট্রাসাউন্ড (USG) — লিভারের অবস্থা বিস্তারিত দেখতে
চিকিৎসা না করালে কী হতে পারে?
সময়মতো চিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি বা সি থেকে হতে পারে:
- লিভার সিরোসিস (লিভার শক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া)
- লিভার ফেইলিওর
- লিভার ক্যান্সার
হেপাটাইটিস প্রতিরোধের উপায়
- হেপাটাইটিস A ও B-এর নির্ধারিত টিকা নিন
- সবসময় জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ও সূচ ব্যবহার করুন
- রক্ত সঞ্চালনের আগে রক্ত স্ক্রিনিং নিশ্চিত করুন
- অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন
- টুথব্রাশ, রেজরের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কারো সাথে শেয়ার করবেন না
- বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন টেস্ট করান

